Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / অবশেষে বর্জ্য বন্যা বন্ধ হলো

অবশেষে বর্জ্য বন্যা বন্ধ হলো

কক্সবাজার প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান আবির : কক্সবাজারের কলাতলী থেকে দরিয়ানগর-হিমছড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫ কি.মি সমুদ্র সৈকতজুড়ে শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বর্জ্য-বন্যা অবশেষে বন্ধ হয়েছে। স্থানীয় লোকজন ও স্বেচ্ছাসেবীরা গত ৩ দিনে অধিকাংশ বর্জ্য অপসারণ করলেও এখনও সৈকতে পড়ে আছে টনকে টক অপচনশীল আবর্জনা। এসব বর্জ্যের উৎস সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের মাঝেও এখনও মতভিন্নতা রয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসারকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে ৩ সদস্যের আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানান কক্সবাজারস্থ সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান। ড. শফিক বলেন, এ বর্জ্য ডমেস্টিক বা অভ্যন্তরীণ বলেও মনে করছে বিএফআরআই’র অনুসন্ধানী দল। তবে স্থানীয় জেলেদের মতে, সেন্টমার্টিন থেকেও প্রায় ৫০ নটিকেল মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে মিয়ানমার জলসীমার কাছোকাছি বঙ্গোপসাগরের ‘নাই বিও’ (তলা বিহীন বা মাপার দড়ির চেয়েও গভীর সমুদ্র এলাকা) নামক স্থানে একটি ভাসমান প্লাস্টিক বর্জ্যের বিশাল এলাকা রয়েছে, যার উপর ভিত্তি করে সেখানে পাখি বাসা বাঁধে, সাপ বিচরণ করে, সামুদ্রিক মাছ ও কচ্ছপসহ নানা প্রাণী বাসা বাঁধে ও প্রজনন করে। স্থানীয় পরিবেশ কর্মীদের মতে, বঙ্গোপসাগরের ভাসমান প্লাস্টিক বর্জ্যকে ঘিরে কচ্ছপ, সাপসহ সামুদ্রিক প্রাণীগুলো একটি স্বতন্ত্র ইকোসিস্টেমস তৈরি করেছিল। যেটি সা¤প্রতিক মহাদেশীয় জোয়ারের সাথে এসব প্রাণীকে সাথে নিয়েই কক্সবাজার সৈকতে ভেসে এসেছে এবং ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয় জেলে ও গবেষকরা বর্জ্যের গায়ে বাসা বাঁধা বার্নাকল্স নামের এক ধরনের শক্ত খোলসযুক্ত কাঁকড়ার বয়স বিবেচনা করে এই প্লাস্টিক রাজ্যের বয়স প্রায় এক বছর হবে বলে ধারণা করছেন। তবে একসাথে আটকে পড়ে স্বতন্ত্র বাস্তুসংস্থান তৈরি হওয়া ওই ভাসমান বর্জ্য রাজ্যের পাশাপাশি আশেপাশের নদ-নদী থেকে ভেসে আসা বর্জ্যও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দেখা গেছে। শনিবার রাত থেকে কক্সবাজারের কলাতলী থেকে দরিয়ানগর-হিমছড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫ কি.মি সমুদ্র সৈকতজুড়ে আকস্মিকভাবে বর্জ্য-বন্যা শুরু হয়। বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে ১০ ভাগ পচনশীল ও ৯০ ভাগ অপচনশীল দ্রব্য। যারমধ্যে প্লাস্টিকের মাছ রাখার ঝুঁড়ি, জাল, ছোট ছোট বয়া, লাইটসহ কিছু আসবাবপত্রও পাওয়া গেছে, যা ডিপ সী ট্রলারে ব্যবহৃত হয়। বর্জ্যের মধ্যে ক্যাপও পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু রকজাল পাওয়া গেছে, যা আমাদের দেশের ছোট ছোট বোটেও ব্যবহৃত হয়। কাঠখন্ড, বাঁশ, স্যান্ডেল, বেভারেজের বোতলসহ প্লাস্টিক-পলিথিনগুলো মোট বর্জ্যের প্রায় ২৫ ভাগ; যা অভ্যন্তরীন নদনদী থেকে গিয়ে সাগরে মিশেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। মোট বর্জ্যের ৭৫ ভাগই সমুদ্রে বিচরণকারী মাছধরা ও অন্যান্য জাহাজের নিক্ষিপ্ত বর্জ্য। তাছাড়া কিছু দেশীয় মেডিক্যাল প্লাস্টিক বর্জ্যকে পোড়ানোর পর তা সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এদিকে সৈকতে স্থানীয় লোকজন ও স্বেচ্ছাসেবীরা গত ৩ দিনে অধিকাংশ বর্জ্য অপসারণ করলেও এখনও সৈকতে পড়ে আছে টনকে টক অপচনশীল আবর্জনা। আর এসব আবর্জনা সৈকতের বালিতে চাপা পড়লে তা উদ্ধার করা কঠিন হবে বলে মনে করেন স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা। এতে সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিক আবর্জনা রাজ্যের মতোই কক্সবাজার সৈকতেও একটি ক্ষণস্থায়ী বাস্তুসংস্থান তৈরি হওয়ার আশংকা করছেন পরিবেশকর্মীরা। তবে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সৈকতের বর্জ্য অপসারণে পৌরসভার পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থারও সাহায্য চাওয়া হচ্ছে।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন