Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / হরিনাকুন্ডুতে অবাধে চলছে অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসা

হরিনাকুন্ডুতে অবাধে চলছে অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসা

হরিনাকুন্ডু থেকে মো :রাব্বুল ইসলামঃ ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে অবাধে চলছে অনেক লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনে দাপটের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে মানহীন এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। ফলে ক্লিনিকগুলোতে প্রায়ই ঘটছে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের লোকদের ম্যানেজ করে পার পেয়ে যায় এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া শহরের কয়েকটি ফার্মেসিতে অবৈধভাবে চলছে আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান চলছে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে সচেতন মহলে। অভিযোগ উঠেছে, নীতিমালা ভঙ্গ করার পরও এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পাচ্ছে নতুন লাইসেন্স। কোনো রকম শর্তপূরণ ছাড়াই নিয়মবহির্ভূতভাবে হচ্ছে লাইসেন্স নবায়ন।

জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে চলছে মানহীন এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। মাঝে মাঝে ঘটছে প্রসূতি ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা। গত মাসে শহরের ভাই ভাই ক্লিনিকে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। এ ঘটনা তদন্ত করে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে কম করে দেওয়া হয়েছে ক্লিনিকটি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হরিণাকুণ্ডু বাজারে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে আলহেরা, শহরের আইজুদ্দিন, আনোয়ারা, ভাই ভাই ক্লিনিক চলছে দীর্ঘদিন ধরে। লাইসেন্স ও ল্যাব টেকনিশিয়ান ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে নিপুণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ভাই ভাই ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে জনতা ও মেডিনোভা নামে ফার্মেসিতে চলছে আলট্রাসনোগ্রামের কার্যক্রম। রবিবার সরেজমিন আলহেরা ও আনোয়ারা ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সার্বক্ষণিক কোনো চিকিৎসক নেই। নেই কোনো ডিপ্লোমা সার্টিফিকেটধারী নার্স। ক্লিনিকগুলোর পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর। লাইসেন্স নবায়ন করা নেই একটিরও। আলহেরা ক্লিনিকের মালিক রেজাউল ইসলাম বলেন, বাইরের একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া আছে। তিনি ঠিকমতো আসেন না। লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করা আছে। ডিপ্লোমা নার্স রাখতে গেলে অনেক টাকা বেতন দেওয়া লাগে। তাই স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত নার্স দিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছি। লাইসেন্স নবায়ন বা ল্যাব টেকনিশিয়ান ছাড়া পরিচালিত নিপুণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ভাই এসব নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। আমরা কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে চলি।’ কাকে ম্যানেজ করেন জানতে চাইলে বলেন, ‘সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের কয়েকজনকে নিয়মিত টাকা দিতে হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জামিনুর রশিদ বলেন, অবৈধ ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার বা পরীক্ষা করি না। অবৈধ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন