Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / হরিনাকুন্ডু সাব- রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের অভিযোগ

হরিনাকুন্ডু সাব- রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের অভিযোগ

হরিনাকুন্ডু থেকে মো: রাব্বুল ইসলাম: করোনা চিকিৎসা ফাণ্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। ওই কর্মকর্তা এরই মধ্যে করোনা চিকিৎসার জন্য সরকারি ফান্ডে অর্থ জমা দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লাখ টাকা। জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে যোগদান করেন। এরপর থেকেই ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন দলিল লেখক জানান, সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর করোনা চিকিৎসাবাবদ সরকারি ফান্ডে সহায়তার নাম করে লেখকদের কাছ থেকে প্রতারণা করে দলিলপ্রতি অতিরিক্ত আরও ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন। এভাবে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার টাকা হিসেবে রবি ও সোমবার দু’দিনে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। গত তিন মাসে তিনি ৪-৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।গত ২৬ আগস্ট উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সাব-রেজিস্ট্রারের প্রতারণা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিলু। এভাবে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কারণে সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও এক দলিল লেখক বলেন, আমিসহ কয়েকজন লেখক করোনার নামে দাবি করা ওই অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় সাব-রেজিস্ট্রার আমাদের দলিল পরে রেজিস্ট্রি করেন। এ ছাড়া মুখ খুললে দলিল লেখকদের লাইসেন্স বাতিল করারও হুমকি দিচ্ছেন তিনি। ওই দপ্তরের বড় বাবু (অফিস সহকারী) আশীষ কুমার ও মোহরার আব্দুল হান্নানের মাধ্যমে তিনি এই টাকা নেন।

এ ছাড়াও সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে দলিলপ্রতি আরও ১ শতাংশ, এক্সটা মোহরারদের বেতনের নাম করে দুইশ’ টাকা, হেবা দলিলে আরও পাঁচশ’ টাকা, কাগজপত্র দুর্বল থাকলে দুই হাজার টাকা, বিকেল ৪টার পর দলিল এলে লেট ফি বাবদ পাঁচশ’ টাকাসহ নানা অজুহাতে ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই দপ্তরের বড় বাবু আশীষ কুমার বলেন, যা হয়েছে এসব বাদ দেন। সব কথা সঠিক নয়। মোহরার আব্দুল হান্নান বলেন, আমার এভাবে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ওয়াজেদ আলী বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম করোনার নাম করে টাকা তো নিচ্ছেনই। আমি এর চেয়ে আর বেশিকিছু বলতে পারছি না।সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম এ বিষয়ে প্রথমে কথা বলবেন না বলে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আসতে বলেন। পরে তিনি সমকালকে বলেন, এসব আমি জানি না। যদি আমার নামে করে আমার দপ্তরের কেউ এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে ইউএনও সৈয়দা নাফিস সুলতানা বলেন, এই মহামারি নিয়ে যদি কেউ প্রতারণা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়, তাহলে সেটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ পেলে সে যেই হোক, তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ওই সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কথা উঠেছে। তাকে আগামী সভায় হাজির হয়ে এ বিয়য়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে জেলা রেজিস্ট্রার আসাদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন