Breaking News
Home / অঞ্চলিক সংবাদ / ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা এখন ভারতীয় গরু ও মাদক প্রবেশের স্বর্গ রাজ্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা এখন ভারতীয় গরু ও মাদক প্রবেশের স্বর্গ রাজ্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ দেশের পুর্বাঞ্চল তথা চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চোরাচালানি পণ্য ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলার ভারত সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলো দিয়ে। সীমান্ত এলাকা যেন এখন গরু ও মাদক চোরাচালানের জন্য নিরাপদ স্পট। সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা দিয়ে চোরাই পথে অবাদে আনছে ভারতীয় গরু এছাড়া মাদকতো রয়েছেই। এতে চক্রটি মোটা আংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় খামারিরা। সেই সাথে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব। পাচার রোধে প্রশাসনকে আরো তৎপর হতে হবে বলে মনে করেন এলাকাবাসীসহ জনপ্রতিনিধিরা।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সীমান্তের কাটাতারের বেড়া পেড়িয়ে একটি চক্র অবৈধ ভাবে কসবা সীমান্ত এলাকা দিয়ে আনছে এসব গরু ও মাদক। অভিযোগ রয়েছে উপজেলার মাতলা, গোরাংগোলা, পুটিয়া সহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে আবার কখনো তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আধারে অবৈধভাবে এইসব গরু দেশে আনা হচ্ছে।

পরে চক্রটি সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে ও নির্জন স্থানে রেখে দালালদের মাধ্যমে সারি সারি পিকআপ দিয়ে সীমান্তবর্তী নয়নপুরসহ বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যায় এছাড়া রয়েছে মাদকও। এখান থেকে পাইকাররা এসে গুরু দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। এতে ওই চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা ফলে সরকার যেমন হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব, তেমনী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় খামারীরা। স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাটাতার পেরিয়ে মাদক ও গরু আনছে চোরাকারবারিরা।

ভারতীয় এসব গরু আসার কারণে দেশীয় খামারিরাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ ঘটনায় তারা প্রশাসনকে দায়ী করেন তারা। ক্রেতারা বলেন, এখানে গরু সস্তা হওয়ায় আমরা এখান থেকে নিতে আসি। এবিষয়ে ১০ নং বায়েক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল মামুন ভূইয়া বলেন, চোরাইপাথে আসা গরুর কারণে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে তিনি জানান।

নয়নপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য নুরুন্নবী আজমল বলেন, কোরিডোরের মাধ্যমে গরু আনা হলে সরকার যেমন লাভবান হবে, আমরাও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব। কসবা উপজেলার চেয়ারম্যান এডভোকেট রাশেদুল কায়সার ভূইয়া জীবন বলেন, আমি উপজেলা চেয়ারম্যান শপথ করার সময় বলেছি যে মাদক মুক্ত কসবা দূর্নীতি মুক্ত কসবা গড়ে তুলবো। তবে তিনি মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনকে আরো তৎপড় হতে হবে বলে জানান।

এবিষয়ে কসবা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলম বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গরু অবৈধ চোরাচালান বন্ধসহ মাদক পাচার রোধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে। সীমান্তে এই ধরনের প্রবনতা বন্ধে তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: রইছ উদ্দিন,মাদক পাচার রোধে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন। তিনি বলেন, ‘শুধু সীমান্তবর্তী এলাকা নয়, জেলায় মাদকের জিরো টলারেন্স দেখাতে আমি বদ্ধ পরিকর। এখানে যোগদানের পর আমি সকল কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছি। সবাইকে দিক নির্দেশনা দিয়েছি। মাদক পাচার, মাদক সেবন চলবেনা। এ লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি’।

About জানাও.কম

মন্তব্য করুন