Breaking News
Home / বাংলাদেশ / বেপরোয়া হয়ে উঠছে আশুগঞ্জের মানুষ, প্রশাসন উদাসীন

বেপরোয়া হয়ে উঠছে আশুগঞ্জের মানুষ, প্রশাসন উদাসীন


ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নিতাই চন্দ্র ভৌমিকঃ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। গত শনিবার (১১ এপ্রিল) জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন। জানান, লকডাউনে এই জেলায়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়কমহাসড়ক এবং নৌপথে অন্য কোনো জেলা থেকে কেউ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রবেশ অথবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে অন্য জেলায় গমন করতে পারবেন না।
কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে বাস স্ট্যান্ড, রাস্তার পাশে বাজার কিংবা প্রতিটি অলিতে গলিতে চায়ের দোকানে হাজার হাজার মানুষের ভীড়। গাদাগাদি করে ছুটে চলার দৃশ্য অনেককে অবাক!
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়।
তালশহর বাজার, আড়াইসিধা বাজার, লালপুর বাজার, তাউরা বাজারসহ সব বাজারেই একই অবস্থা। মাছের দোকান, সবজির দোকান, মুদি- কাচাবাজার ও মাছ বাজারে গায়ে গায়ে লেগে লোকজনকে বাজার করতে দেখা গেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা, অনেকেই মুখে মাস্ক পর্যন্ত পরেননি।
এত কিছু করেও অনেক জায়গায় মানুষের হুঁশ ফিরছে না। করোনা ভাইরাস সারা পৃথিবীজুড়ে মহামারির রূপ নিয়েছে। দিন দিন বাড়ছে মৃত্যু-মিছিল। কিন্তু তা দেখেও জমায়েত আটকানো যাচ্ছে না এই আশুগঞ্জে। এলাকার মানুষ জমায়েত হয় লকডাউন না মেনে। বুধবার এলাকায় হাট বসেছে আগের মতোই সেখানে মানুষের গাদাগাদি ভিড়ে নেই করোনা সম্পর্কিত কোনও সুরক্ষা। সামাজিক দূরত্তকে গুরুত্ব না দিয়ে চলছে হাটবাজার।
আশুগঞ্জে নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও সড়কে চলেছে রিকশা, অটোরিক্সা ও প্রাইভেট যানবাহন। নানা অজুহাতে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হরহামেশাই সাধারণ মানুষ রাস্তায় চলে আসছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহলের সময় রাস্তা ফাঁকা থাকলেও টহলরত গাড়ি চলে গেলে পূনরায় শুরু হয় জটলা।
সব জায়গাতেই মানুষের দীর্ঘলাইন দেখা গেছে। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল টিম এসে পৌঁছলে পরিবেশ কিছুক্ষণের জন্য ভালো হয়। কিন্তু ১৫ মিনিট পরই আবার বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে দেখা যায়।বিশেষ করে সকাল থেকে শহরের পাড়া মহল্লা ও হাটবাজারগুলো জমে ওঠে মানুষের ভিড়ে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়াও আড্ডা জমে দোকানগুলোতে। এলাকায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় মানছে না লকডাউন, এভাবে চলতে থাকলে সমস্যা আরো ভয়াবহ হতে পারে।
রেলগেট বাজারের রাস্তার সবজি-বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, গত ২ দিন ধরে তিনি দোকান খুলেছেন। এর আগে দোকান খোলেননি। তার মতো অনেকেই এখন দোকান খুলে বসেছেন এই এলাকার বাসিন্দ বলেন, এইসময় এভাবে মানুষের এক জায়গায় জমায়েত হওয়ায় আতঙ্ক বাড়াচ্ছে।
শাহীন আলম নামের এক ক্রেতা জানান, তিনি চরচারতলা থেকে এসেছেন। তাকে দুইবার লাইন ধরতে হয়েছে।একবার তেলের জন্য আর একবার চিনির জন্য। এখানে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি কেউ মানেন না। বাজারের ব্যাসায়ী সুমন জানান, অনেকবার সবাইকে সতর্ক করার পরও কেউ কথা শোনেন না। সবাই আগে মাল পেতে চায়। করোনা সংক্রমণের অন্যতম স্থান কাঁচাবাজারগুলো আশুগঞ্জে বিভিন্ন কাচাবাজার ও মাছ বাজারের কোন নজরদারি না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তাছাড়া প্রশাসনের ঘোষনা করা বিকেল ৫টা থেকে শুধুমাত্র ওষুধের দোকান ব্যতিত সকল ধরণের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিলেও তা উপজেলার অনেক জায়গায় তা মানা হচ্ছে না এতে প্রশাসনের দুষলেন উপজেলার সচেতন মহল। বৃহৎস্বার্থে প্রশাসনকে আরো কঠোর ভূমিকা পালনের পরামর্শ সচেতন মহলের।
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.নাজিমুল হায়দার সিএন আইকে জানান, আমরা সব সময় উপজেলায় ঘুরছি। জনসমাগম পেলে তা ভেঙ্গে দিচ্ছি এবং মানুষদের বোঝানোর চেস্টা করছি। এছাড়াও আশুগঞ্জ হাটসহ বিভিন্ন হাট ও বাজার না বসার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। তারা সেটা না মানলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

About বার্তা সম্পাদক

মন্তব্য করুন